কৃষক বন্ধু প্রকল্প ২০২৬: ₹১০,০০০ আর্থিক সহায়তা, যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি ও মৃত্যু সুবিধা
কৃষক বন্ধু (Krishak Bandhu) পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প। কৃষি কাজের খরচে সহায়তা করা এবং কৃষকের অকালমৃত্যুর ক্ষেত্রে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো—এই দুই উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করে প্রকল্পটি পরিচালিত হয়।
বর্তমানে প্রকল্পটি “কৃষক বন্ধু (নতুন)” বা Krishak Bandhu (Natun) নামে পরিচালিত হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১ একর বা তার বেশি চাষযোগ্য জমির কৃষক বছরে সর্বোচ্চ ₹১০,০০০ এবং ১ একরের কম জমির ক্ষেত্রে pro-rata ভিত্তিতে ন্যূনতম ₹৪,০০০ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন। এই অর্থ বছরে দুটি সমান কিস্তিতে দেওয়া হয়।
কৃষক বন্ধু প্রকল্প কী?
কৃষক বন্ধু প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের কৃষিকাজের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষকের অকালমৃত্যুর ক্ষেত্রে তাঁর পরিবারের জন্য সামাজিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করে।
মূল কৃষক বন্ধু প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০১৯ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি দপ্তর চালু করে। পরে প্রকল্পটি পুনর্গঠন করে “Krishak Bandhu (Natun)” নামে চালু করা হয় এবং নতুন কাঠামোটি ১৭ জুন ২০২১ থেকে কার্যকর হয়।
তাই প্রকল্পের সূচনার তারিখ হিসেবে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ লেখা সঠিক নয়।
কৃষক বন্ধু (Natun)-এর প্রধান সুবিধা
বর্তমান সরকারি তথ্য অনুযায়ী প্রকল্পটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ রয়েছে:
১. কৃষিকাজের জন্য বার্ষিক আর্থিক সহায়তা
-
১ একর বা তার বেশি চাষযোগ্য জমি থাকলে বছরে সর্বোচ্চ ₹১০,০০০
-
১ একরের কম জমি থাকলে জমির পরিমাণ অনুযায়ী pro-rata হারে সহায়তা
-
১ একরের কম জমির ক্ষেত্রেও ন্যূনতম সহায়তা ₹৪,০০০
-
টাকা বছরে দুটি সমান কিস্তিতে দেওয়া হয়
-
কিস্তিগুলি Kharif এবং Rabi কৃষি মরসুমের সঙ্গে সম্পর্কিত
অর্থাৎ, ১ একর বা তার বেশি জমির ক্ষেত্রে ₹১০,০০০-কে দুটি কিস্তিতে ভাগ করলে সাধারণভাবে ₹৫,০০০ + ₹৫,০০০ হয়।
২. কৃষক বন্ধু মৃত্যু সুবিধা
কৃষক বন্ধু (Death Benefit) অংশে, ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে কোনো কৃষকের মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে এককালীন ₹২ লক্ষ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
এই সুবিধার উদ্দেশ্য হলো কৃষকের অকালমৃত্যুর পরে তাঁর পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তায় সহায়তা করা।
১ একরের কম জমির কৃষক কি কৃষক বন্ধু প্রকল্পে সুবিধা পাবেন?
হ্যাঁ।
আপনার মূল লেখায় “১ একর বা তার বেশি জমি”কে যোগ্যতার শর্ত হিসেবে লেখা হয়েছে, কিন্তু বর্তমান সরকারি তথ্য অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়।
১ একরের কম চাষযোগ্য জমি থাকলেও কৃষক কৃষক বন্ধু (Natun)-এর আওতায় আসতে পারেন।
তাঁদের জন্য জমির পরিমাণ অনুযায়ী pro-rata ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা নির্ধারণ করা হয়, তবে ন্যূনতম সহায়তা ₹৪,০০০ প্রতি বছর।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পে কত টাকা পাওয়া যায়?
| জমির পরিমাণ | বার্ষিক আর্থিক সহায়তা |
|---|---|
| ১ একর বা তার বেশি | সর্বোচ্চ ₹১০,০০০ |
| ১ একরের কম | Pro-rata ভিত্তিতে |
| ১ একরের কম জমির ন্যূনতম সহায়তা | ₹৪,০০০ |
| মৃত্যু সুবিধা | এককালীন ₹২ লক্ষ |
মনে রাখবেন: ১ একরের কম জমির ক্ষেত্রে সবার জন্য একই ₹৪,০০০ নয়; সরকারি তথ্য অনুযায়ী ₹৪,০০০ হলো ন্যূনতম সহায়তা, আর জমির পরিমাণ অনুযায়ী pro-rata হিসাব প্রযোজ্য।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা কবে দেওয়া হয়?
সরকারি কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বার্ষিক কৃষি সহায়তা দুটি সমান কিস্তিতে দেওয়া হয়:
-
Kharif Season: এপ্রিল–সেপ্টেম্বর
-
Rabi Season: অক্টোবর–মার্চ
তাই “প্রতি মাসে টাকা” বা “নির্দিষ্ট মাসের নির্দিষ্ট তারিখে টাকা আসবে”—এভাবে লেখা ঠিক নয়।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পে কারা সুবিধা পেতে পারেন?
প্রকল্পটি পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের কৃষিকাজের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।
বিশেষ করে কৃষকের চাষযোগ্য জমির পরিমাণ অনুযায়ী কৃষি সহায়তার পরিমাণ নির্ধারিত হয়। ১ একর বা তার বেশি জমির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ₹১০,০০০ এবং ১ একরের কম জমির ক্ষেত্রে pro-rata সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে।
তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে জমির রেকর্ড ও অন্যান্য তথ্য সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করা হয়।
ভাগচাষী বা বর্গাদার কি কৃষক বন্ধু পাবেন?
এখানে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
আপনার মূল লেখায় “ভাগচাষীও যোগ্য (স্ব-ঘোষণা)” বলা হয়েছে। বর্তমান সরকারি কৃষক বন্ধু তথ্য থেকে এই দাবিটি সাধারণভাবে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
বরং কৃষি দপ্তরের সাম্প্রতিক ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের জন্য আলাদা Annual Financial Assistance Scheme-এর FAQ-তে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে ওই প্রকল্পের সুবিধা তাঁদের জন্য, যাঁদের চাষযোগ্য জমি নেই এবং যাঁরা sharecropper হিসেবে recorded নন।
তাই কৃষক বন্ধু নিবন্ধে “সব ভাগচাষী স্ব-ঘোষণার মাধ্যমে কৃষক বন্ধু পাবেন”—এমন নিশ্চিত দাবি না করাই নিরাপদ। নির্দিষ্ট জমির রেকর্ড ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী যোগ্যতা যাচাই করা উচিত।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা কী কাজে ব্যবহার করা যায়?
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের কৃষি সহায়তা কৃষিকাজের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন:
-
বীজ কেনা
-
সার কেনা
-
কৃষি উপকরণ কেনা
-
চাষের অন্যান্য খরচ
-
কৃষিকাজের মৌসুমি ব্যয়
তবে এটিকে নির্দিষ্ট কোনও একটি পণ্য কেনার জন্য বাধ্যতামূলক ভর্তুকি হিসেবে না দেখে কৃষিকাজের আর্থিক সহায়তা হিসেবে বোঝা উচিত।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আরও একটি সুবিধা
কৃষক বন্ধু প্রকল্পে নিবন্ধিত কৃষকেরা রাজ্য সরকারের ধান সংগ্রহ বা paddy procurement scheme-এ preference পাওয়ার সুযোগ পান বলে সরকারি কৃষক বন্ধু পোর্টালে উল্লেখ রয়েছে।
এটি কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সরাসরি নগদ সহায়তার বাইরে একটি গুরুত্বপূর্ণ অতিরিক্ত সুবিধা।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পে কীভাবে আবেদন করবেন?
কৃষক বন্ধু পোর্টালে প্রকল্প সংক্রান্ত পরিষেবা এবং তথ্য পাওয়া যায়।
Krishak Bandhu – সরকারি পোর্টাল
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিবন্ধন ও অন্যান্য তথ্যের জন্য কৃষক নিজের Block-এর Assistant Director of Agriculture-এর অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।
কৃষি দপ্তরের পোর্টালেও Krishak Bandhu সংক্রান্ত verification ও অন্যান্য পরিষেবার তথ্য প্রকাশ করা হয়।
আবেদন করার সময় কী কী তথ্য লাগতে পারে?
আবেদন বা নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কৃষকের পরিচয়, জমি এবং ব্যাংক সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হতে পারে।
সাধারণভাবে প্রস্তুত রাখুন:
-
Aadhaar Card
-
Voter ID
-
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য
-
ব্যাংক পাসবুক
-
মোবাইল নম্বর
-
জমির রেকর্ড/জমি সংক্রান্ত নথি
-
প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সরকারি নথি
তবে সব আবেদনকারীর জন্য একই নথির তালিকা বাধ্যতামূলক—এমন দাবি না করে, আবেদন করার সময় সরকারি পোর্টাল বা সংশ্লিষ্ট কৃষি দপ্তরের সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
কৃষক বন্ধু স্ট্যাটাস কীভাবে দেখবেন?
কৃষক বন্ধু পোর্টালে কৃষকের তথ্য অনুসন্ধানের ব্যবস্থা রয়েছে।
Krishak Bandhu – সরকারি পোর্টাল
পোর্টালে উপলব্ধ Farmer Search পরিষেবার মাধ্যমে নির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে কৃষকের রেকর্ড অনুসন্ধান করা যায়।
কোনও তথ্য না পাওয়া গেলে বা তথ্যের মধ্যে ভুল থাকলে সংশ্লিষ্ট Assistant Director of Agriculture / Block Agriculture Office-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের হেল্পলাইন নম্বর
বর্তমান কৃষক বন্ধু সরকারি পোর্টালে যে সরাসরি হেল্পলাইন নম্বর দেওয়া রয়েছে তা হলো:
033-23570021
সরকারি পোর্টাল অনুযায়ী হেল্পলাইন পরিষেবার সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা। পোর্টালে একটি helpdesk email-ও দেওয়া রয়েছে।
তাই আপনার মূল লেখায় দেওয়া ১৯৬৭ নম্বরটি কৃষক বন্ধু প্রকল্পের বর্তমান সরকারি হেল্পলাইন হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পে বর্তমানে কতজন কৃষক সুবিধা পাচ্ছেন?
এখানে আপনার মূল লেখার “২.৭ কোটি+ কৃষক” সংখ্যাটি পরিবর্তন করা দরকার।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষি দপ্তরের বর্তমান কৃষক বন্ধু পেজে বলা হয়েছে যে প্রকল্পটি বর্তমানে প্রায় ১.১০ কোটি কৃষককে সুবিধা দিচ্ছে। একই পেজে প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে মোট ₹৩০,০৪৯ কোটি আর্থিক সহায়তা বিতরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ২০২৬ সালের রাজ্য বাজেট বক্তৃতায় ২০২৫-২৬ সালের Kharif মরসুমে ১১০ লাখ কৃষককে ₹২,৯৩০ কোটি দেওয়ার কথা এবং প্রকল্প শুরুর পর থেকে ₹২৭,০১৬.৫৯ কোটি বিতরণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংখ্যাগুলি ভিন্ন সময়ের হিসাব, তাই একই সময়ের পরিসংখ্যান হিসেবে মেশানো উচিত নয়।
এই কারণে নিবন্ধে বর্তমান সরকারি পোর্টালের প্রায় ১.১০ কোটি সংখ্যাটিই ব্যবহার করা বেশি উপযুক্ত।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের জন্য ২০২৬-২৭ বাজেট
২০২৬-২৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বাজেট নথিতেও Financial Support to “Krishak Bandhu” নামে অর্থ বরাদ্দ রয়েছে।
এটি দেখায় যে কৃষক বন্ধু প্রকল্পটি বর্তমান রাজ্য বাজেট কাঠামোর মধ্যেও রয়েছে।
কৃষক বন্ধু মৃত্যু সুবিধা কী?
কৃষক বন্ধু Death Benefit-এর অধীনে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে কৃষকের মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে এককালীন ₹২ লক্ষ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
২০২৬ সালের বাজেট বক্তৃতায় জানানো হয়েছে যে ২০২৫-২৬ সালে এই Death Benefit-এর অধীনে ২০,৯৪৪ জন মৃত কৃষকের পরিবারের সদস্যদের ₹৪১৮.৮৮ কোটি বিতরণ করা হয়েছে। প্রকল্প শুরুর পর থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ১,৫৮,৭৪৭টি bereaved family-কে মোট ₹৩,১৭৪.৯৪ কোটি দেওয়ার কথা সেখানে উল্লেখ রয়েছে।
তাই আপনার মূল লেখায় থাকা “১০,০০০+ মৃত্যু দাবি নিষ্পত্তি” বর্তমান সরকারি তথ্যের তুলনায় পুরনো/ভুল সংখ্যা।
কৃষক বন্ধু ও ₹৪,০০০—এটি কি আলাদা নতুন কৃষক প্রকল্প?
না—এখানেও আপনার মূল লেখায় বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে।
১ একরের কম চাষযোগ্য জমির কৃষকদের জন্য ₹৪,০০০ হল কৃষক বন্ধু (Natun)-এর ন্যূনতম বার্ষিক সহায়তা, আলাদা “নতুন কৃষক স্কিম” হিসেবে এটিকে লেখা উচিত নয়।
তবে পশ্চিমবঙ্গ কৃষি দপ্তর ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের জন্য আলাদা Annual Financial Assistance Scheme-ও পরিচালনা করছে। সেই প্রকল্পে যোগ্য ভূমিহীন কৃষি শ্রমিকদের বছরে ₹৪,০০০ দুটি ₹২,০০০ কিস্তিতে দেওয়ার কথা সরকারি FAQ-তে উল্লেখ আছে।
অর্থাৎ কৃষক বন্ধু (Natun)-এর ₹৪,০০০ ন্যূনতম সহায়তা এবং ভূমিহীন ক্ষেতমজুরদের আলাদা ₹৪,০০০ প্রকল্প—দুটি এক জিনিস নয়।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের টাকা না এলে কী করবেন?
টাকা না এলে প্রথমে:
-
কৃষক বন্ধু পোর্টালে নিজের রেকর্ড পরীক্ষা করুন।
-
ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সঠিক আছে কি না দেখুন।
-
জমির রেকর্ড সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করুন।
-
প্রয়োজনে Block-এর Assistant Director of Agriculture বা সংশ্লিষ্ট কৃষি দপ্তরে যোগাযোগ করুন।
-
প্রয়োজনে সরকারি কৃষক বন্ধু হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন।
বর্তমান সরকারি পোর্টালে হেল্পলাইন নম্বর 033-23570021, সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পে আবেদন করার সময় সতর্কতা
কৃষকদের জন্য কয়েকটি বিষয় মনে রাখা গুরুত্বপূর্ণ:
-
শুধুমাত্র সরকারি কৃষক বন্ধু পোর্টাল ব্যবহার করুন।
-
অচেনা ব্যক্তিকে OTP দেবেন না।
-
ব্যাংকের PIN বা ATM PIN কাউকে দেবেন না।
-
জমির তথ্য ভুলভাবে দেবেন না।
-
আবেদন করার পরে acknowledgement বা reference তথ্য সংরক্ষণ করুন।
-
কোনও দালালকে সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অযথা টাকা দেবেন না।
-
সরকারি নিয়ম পরিবর্তন হলে সর্বশেষ কৃষি দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
কৃষক বন্ধু প্রকল্প নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন
কৃষক বন্ধুতে বছরে কত টাকা পাওয়া যায়?
১ একর বা তার বেশি চাষযোগ্য জমির ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ₹১০,০০০। ১ একরের কম জমির ক্ষেত্রে pro-rata ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া হয়, তবে ন্যূনতম ₹৪,০০০।
১ একরের কম জমি থাকলে কি কৃষক বন্ধু পাওয়া যায়?
হ্যাঁ। ১ একরের কম জমির জন্যও pro-rata সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে এবং ন্যূনতম সহায়তা ₹৪,০০০।
কৃষক বন্ধু টাকা কত কিস্তিতে দেয়?
বছরে দুটি সমান কিস্তিতে দেওয়া হয়—Kharif ও Rabi মরসুমে।
কৃষক বন্ধু মৃত্যু সুবিধা কত?
১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে কৃষকের মৃত্যু হলে পরিবারকে এককালীন ₹২ লক্ষ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
কৃষক বন্ধু প্রকল্প কবে শুরু হয়?
মূল কৃষক বন্ধু প্রকল্প জানুয়ারি ২০১৯ সালে চালু হয়। পরে এটি পুনর্গঠন করে Krishak Bandhu (Natun) করা হয় এবং নতুন প্রকল্পটি ১৭ জুন ২০২১-এ চালু হয়।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের সরকারি পোর্টাল কোনটি?
Krishak Bandhu Official Portal
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের হেল্পলাইন কত?
বর্তমান সরকারি পোর্টালে 033-23570021 নম্বরটি Direct Helpline হিসেবে দেওয়া রয়েছে। পরিষেবার সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা।
কৃষক বন্ধু প্রকল্প: এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রকল্পের নাম | কৃষক বন্ধু (নতুন) / Krishak Bandhu (Natun) |
| মূল প্রকল্প শুরু | জানুয়ারি ২০১৯ |
| পুনর্গঠিত প্রকল্প | Krishak Bandhu (Natun) |
| নতুন প্রকল্প চালু | ১৭ জুন ২০২১ |
| ১ একর বা বেশি জমি | বছরে সর্বোচ্চ ₹১০,০০০ |
| ১ একরের কম জমি | Pro-rata সহায়তা |
| ন্যূনতম সহায়তা | ₹৪,০০০/বছর |
| কিস্তি | ২টি |
| মৃত্যু সুবিধা | ₹২ লক্ষ |
| মৃত্যু সুবিধার বয়স | ১৮–৬০ বছর |
| বর্তমান সুবিধাভোগী | প্রায় ১.১০ কোটি |
| সরকারি হেল্পলাইন | 033-23570021 |
| সরকারি পোর্টাল | krishakbandhu.wb.gov.in |
উপসংহার
কৃষক বন্ধু (Natun) পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প। বর্তমানে ১ একর বা তার বেশি চাষযোগ্য জমির ক্ষেত্রে বছরে সর্বোচ্চ ₹১০,০০০ এবং ১ একরের কম জমির ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ অনুযায়ী pro-rata সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। পাশাপাশি ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে কৃষকের মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারের জন্য ₹২ লক্ষের এককালীন Death Benefit-এর ব্যবস্থাও রয়েছে।
বর্তমান সরকারি কৃষি দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১.১০ কোটি কৃষক এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন এবং প্রকল্পের মাধ্যমে শুরু থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক সহায়তা বিতরণ হয়েছে।
কৃষক বন্ধু প্রকল্পের আবেদন, স্ট্যাটাস, যোগ্যতা বা অর্থপ্রদান সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যের জন্য কৃষকদের সরকারি কৃষক বন্ধু পোর্টাল এবং সংশ্লিষ্ট কৃষি দপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
সরকারি সূত্র
Krishak Bandhu Official Portal
Department of Agriculture, Government of West Bengal
West Bengal Finance Department – 2026-27 Budget
তথ্য যাচাই: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দাবি: সরকারি প্রকল্পের নিয়ম, যোগ্যতা, অর্থপ্রদান ও আবেদন পদ্ধতি ভবিষ্যতে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন বা সুবিধা নেওয়ার আগে সর্বশেষ সরকারি নির্দেশিকা যাচাই করা উচিত।