শিশু সাথী: শিশুদের হার্ট অপারেশন বিনামূল্যে
পশ্চিমবঙ্গ

শিশু সাথী: শিশুদের হার্ট অপারেশন বিনামূল্যে

১২ বছরের কম বয়সীদের বিনামূল্যে হার্ট সার্জারি

12 October, 2026

শিশু সাথী প্রকল্প ২০২৬: শিশুদের বিনামূল্যে হার্টের চিকিৎসা, যোগ্যতা, আবেদন ও হাসপাতাল

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের শিশু সাথী (Sishu Sathi) প্রকল্প শিশুদের গুরুতর হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সার্জারি বিনামূল্যে দেওয়ার উদ্দেশ্যে চালু করা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য উদ্যোগ। প্রকল্পটি ২১ আগস্ট ২০১৩ সালে শুরু হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই প্রকল্পের আওতায় শিশুদের হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার জন্য রাজ্য সরকার চিকিৎসার ব্যয় বহন করে এবং পরিবারের আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সুবিধা সীমাবদ্ধ করা হয়নি।

শিশু সাথী প্রকল্প কী?

শিশুদের জন্মগত বা অন্যান্য হৃদ্‌রোগের ক্ষেত্রে অনেক সময় জটিল পরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। এই ধরনের চিকিৎসার খরচ অনেক পরিবারের পক্ষে বহন করা কঠিন হতে পারে।

এই বিষয়টি মাথায় রেখে পশ্চিমবঙ্গ সরকার শিশু সাথী প্রকল্প চালু করে। সরকারি প্রকল্পের তথ্য অনুযায়ী, এর মূল লক্ষ্য হলো প্রয়োজনীয় শিশুদের বিনামূল্যে বিশেষায়িত হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা ও সার্জারির সুযোগ দেওয়া।

শিশু সাথী প্রকল্প কবে শুরু হয়?

শিশু সাথী প্রকল্পের সূচনা হয় ২১ আগস্ট ২০১৩ সালে। শুরু থেকেই প্রকল্পটির লক্ষ্য ছিল শিশুদের হৃদ্‌রোগের চিকিৎসায় আর্থিক বাধা কমানো এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে বিনামূল্যে সার্জারির ব্যবস্থা করা।

শিশু সাথী প্রকল্পের প্রধান সুবিধা

প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষায়িত চিকিৎসা ও সার্জারির ব্যবস্থা করা হয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে বিশেষভাবে paediatric cardiac surgery বা শিশুদের হৃদ্‌যন্ত্রের অস্ত্রোপচার অন্তর্ভুক্ত।

পুরনো সরকারি প্রকল্প বিবরণে আরও কিছু শিশু-স্বাস্থ্য পরিষেবা যেমন cleft lip/palate এবং club foot চিকিৎসাকে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত করার কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে বর্তমানে কোন চিকিৎসা বা কোন হাসপাতালে কোন পরিষেবা চালু আছে, তা চিকিৎসা কেন্দ্র ও সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য দপ্তরের মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া উচিত।

কারা শিশু সাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন?

সরকারি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকল্প পেজে শিশুদের হৃদ্‌রোগের সার্জারির জন্য ১২ বছর পর্যন্ত বয়সী শিশুদের সুবিধার কথা বলা হয়েছে। একই সরকারি পেজে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে পরিবারের আয় অনুযায়ী কোনো সীমা নেই।

তবে বিভিন্ন সরকারি নথিতে বয়সসীমা নিয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়—একটি স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত সরকারি সংকলনে ০–১৮ বছর বয়সী শিশুদের উল্লেখ রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট শিশুর ক্ষেত্রে বর্তমান বয়সসীমা ও চিকিৎসার যোগ্যতা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর/চিকিৎসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করা সবচেয়ে নিরাপদ।

গুরুত্বপূর্ণ কথা

“পরিবারের বার্ষিক আয় ৩ লক্ষ টাকার কম হতে হবে” — এই তথ্যটি শিশু সাথী প্রকল্পের সরকারি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকল্প পেজে নেই। বরং সেখানে বলা হয়েছে, পরিবারের আর্থিক অবস্থা যাই হোক, যোগ্য শিশু চিকিৎসার সুবিধা পেতে পারে।

শিশু সাথী প্রকল্পে কীভাবে আবেদন করবেন?

শিশু সাথীকে সাধারণ সাধারণ অনলাইন স্কলারশিপ বা আর্থিক সহায়তার মতো নিজে থেকে একটি ফর্ম পূরণ করে আবেদন করার প্রকল্প হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যোগাযোগের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাস্থ্য প্রশাসনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করা যায়। জেলা পর্যায়ে Chief Medical Officer of Health (CMOH) এবং ব্লক পর্যায়ে Block Medical Officer of Health (BMOH)-এর সঙ্গে যোগাযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। কলকাতার ক্ষেত্রে District Family Welfare Officer (DFWO)-এর সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

আবেদন/চিকিৎসার জন্য কী করবেন?

১. শিশুর হৃদ্‌রোগের সমস্যা থাকলে প্রথমে সরকারি হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে শিশুকে দেখান।

২. প্রয়োজন হলে শিশুর পরীক্ষা ও চিকিৎসার রিপোর্ট সংগ্রহ করুন।

৩. সংশ্লিষ্ট BMOH/CMOH অফিসে শিশু সাথী প্রকল্পের অধীনে চিকিৎসার বিষয়ে যোগাযোগ করুন।

৪. কলকাতায় প্রয়োজন হলে DFWO-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।

৫. এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী অনুমোদিত/চুক্তিবদ্ধ চিকিৎসা কেন্দ্রে শিশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

কী কী নথি লাগতে পারে?

নথিপত্রের সঠিক তালিকা শিশুর পরিস্থিতি এবং রেফারেল প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই আগে থেকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসার কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা ভালো।

সাধারণভাবে সঙ্গে রাখতে পারেন:

  • শিশুর জন্মের প্রমাণ/বয়সের প্রমাণ

  • পশ্চিমবঙ্গে বসবাসের প্রমাণ

  • শিশুর চিকিৎসার রিপোর্ট

  • Echocardiography বা অন্যান্য পরীক্ষার রিপোর্ট, যদি করা হয়ে থাকে

  • আগের হাসপাতালের প্রেসক্রিপশন বা রিপোর্ট

  • চিকিৎসকের referral/পরামর্শপত্র, যদি থাকে

  • অভিভাবকের পরিচয়পত্র

আধার বা রেশন কার্ডই যে সব ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক—এমন সাধারণ নিয়ম এই প্রকল্পের সরকারি তথ্য থেকে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই নির্দিষ্ট নথির জন্য সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য দপ্তর বা হাসপাতালের নির্দেশ অনুসরণ করুন।

কোন হাসপাতালে শিশু সাথীর চিকিৎসা হয়?

প্রকল্পের বিভিন্ন সরকারি তথ্য ও নথিতে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি একাধিক বেসরকারি অংশীদার হাসপাতালের উল্লেখ পাওয়া যায়।

সরকারি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকল্প পেজে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে:

  • IPGMER/SSKM, কলকাতা

  • B.C. Roy Memorial Hospital for Children

  • R.G. Kar Medical College and Hospital

  • BM Birla Heart Research Centre

  • RN Tagore International Institute of Cardiac Sciences

  • Mission Hospital, Durgapur

তবে হাসপাতালের তালিকা ও নির্দিষ্ট চিকিৎসা পরিষেবা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই শিশুকে নিয়ে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর বা হাসপাতাল থেকে নিশ্চিত করে নেওয়া উচিত।

শিশু সাথী প্রকল্পে কতজন শিশু উপকৃত হয়েছেন?

এই জায়গায় আপনার মূল খসড়ার “১৫,০০০+ শিশু” তথ্যটি এখন পুরনো হয়ে গেছে।

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ২০২৪ সালের একটি সরকারি প্রকাশনায় বলা হয়েছিল, শিশু সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ৩০,০০০ শিশু বিনামূল্যে হার্ট সার্জারি পেয়েছে।

আরও সাম্প্রতিক পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, শিশু সাথীর অধীনে প্রায় ৬৪,০০০ শিশুর জীবনরক্ষাকারী অস্ত্রোপচার/চিকিৎসা হয়েছে এবং এই কাজে রাজ্যের ব্যয় প্রায় ₹৩০৭ কোটি।

তাই নিবন্ধে “১৫,০০০+” ব্যবহার না করে নির্দিষ্ট সরকারি রিপোর্টের তারিখ উল্লেখ করে সংখ্যা দেওয়া বেশি নির্ভরযোগ্য।

৯৫% সাফল্যের হার কি সত্য?

আপনার খসড়ায় ৯৫% সাফল্যের হার লেখা আছে। বর্তমান সরকারি উৎসে আমি এই নির্দিষ্ট ৯৫% হার যাচাই করতে পারিনি। তাই এটি নিবন্ধে না রাখাই ভালো।

চিকিৎসার ফলাফল রোগের ধরন, শিশুর বয়স, অস্ত্রোপচারের জটিলতা এবং অন্যান্য চিকিৎসাগত বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে।

শিশু সাথী ও স্বাস্থ্য সাথী কি একই প্রকল্প?

না। শিশু সাথী এবং স্বাস্থ্য সাথী দুটি আলাদা সরকারি স্বাস্থ্য উদ্যোগ।

শিশু সাথীর মূল লক্ষ্য শিশুদের নির্দিষ্ট বিশেষায়িত চিকিৎসা, বিশেষ করে হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা ও সার্জারি নিয়ে কাজ করা। অন্যদিকে স্বাস্থ্য সাথী একটি বৃহত্তর cashless health protection scheme, যার নিজস্ব নিয়ম, হাসপাতাল ও সুবিধার কাঠামো রয়েছে।

তাই “স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকলেই শিশু সাথীর সুবিধা সরাসরি পাওয়া যাবে”—এভাবে সাধারণীকরণ করা ঠিক হবে না। শিশুর ক্ষেত্রে শিশু সাথী প্রকল্পের নিজস্ব যোগ্যতা ও referral/medical assessment প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

কোথায় যোগাযোগ করবেন?

সরকারি তথ্য অনুযায়ী শিশু সাথী প্রকল্পের বিষয়ে যোগাযোগের জন্য:

  • ব্লক: Block Medical Officer of Health (BMOH)

  • জেলা: Chief Medical Officer of Health (CMOH)

  • কলকাতা: District Family Welfare Officer (DFWO)

আপনার জেলার স্বাস্থ্য দপ্তরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট CMOH/BMOH-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।

আপনার দেওয়া ১৮০০৩৪৫৫৩৮৪ নম্বরটি শিশু সাথীর বর্তমান সরকারি হেল্পলাইন হিসেবে আমি নির্ভরযোগ্য সরকারি উৎসে নিশ্চিত করতে পারিনি। তাই যাচাই ছাড়া এই নম্বরটি ওয়েবসাইটে দেওয়া উচিত নয়।

শিশু সাথী প্রকল্প নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

শিশু সাথীর চিকিৎসা সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে বিনামূল্যে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়। কোনো দালাল বা অচেনা ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে “শিশু সাথীতে নাম তোলা”, “হাসপাতালে দ্রুত অপারেশন করানো” বা “সরকারি অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার” প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাস করবেন না।

চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত সবসময় যোগ্য চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট সরকারি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী নেওয়া উচিত।

FAQ — শিশু সাথী প্রকল্প

শিশু সাথী প্রকল্পে কি পরিবারের আয় কম হওয়া বাধ্যতামূলক?

না। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকল্পের সরকারি পেজে বলা হয়েছে, পরিবারের আয় অনুযায়ী কোনো সীমা নেই।

শিশু সাথী প্রকল্প কবে শুরু হয়?

প্রকল্পটি ২১ আগস্ট ২০১৩ সালে শুরু হয়।

১২ বছরের বেশি বয়সী শিশু কি সুবিধা পেতে পারে?

সরকারি Scheme Information পেজে ১২ বছর পর্যন্ত বয়সের কথা বলা হয়েছে। তবে অন্য সরকারি নথিতে ০–১৮ বছরের তথ্যও পাওয়া যায়। তাই বয়সের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শিশুর বর্তমান যোগ্যতা জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিশ্চিত করা উচিত।

অনলাইনে শিশু সাথীর আবেদন করা যায়?

এটি সাধারণ অনলাইন আবেদনভিত্তিক আর্থিক প্রকল্প নয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী BMOH/CMOH/DFWO-এর মাধ্যমে যোগাযোগ ও referral প্রক্রিয়ার উল্লেখ রয়েছে। তাই শুধু কোনো তৃতীয় পক্ষের ওয়েবসাইটে গিয়ে টাকা দিয়ে আবেদন করার প্রয়োজন নেই।

শিশু সাথীতে হার্ট সার্জারি কি বিনামূল্যে?

প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্যই হলো প্রয়োজনীয় শিশুদের বিনামূল্যে বিশেষায়িত cardiac treatment ও surgery দেওয়া।

শেষ কথা

শিশু সাথী প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে শিশুদের গুরুতর হৃদ্‌রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্য উদ্যোগ। প্রকল্পটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—যোগ্য শিশুর প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা ও সার্জারির আর্থিক বোঝা কমানোর জন্য সরকারি সহায়তা প্রদান।

তবে বয়সসীমা, referral, নির্দিষ্ট হাসপাতাল এবং প্রয়োজনীয় নথির মতো বিষয় সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই শিশুর চিকিৎসার ক্ষেত্রে সর্বশেষ তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি স্বাস্থ্য দপ্তর বা হাসপাতালের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করা উচিত।

তথ্য যাচাই: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রধান তথ্যসূত্র: Government of West Bengal, Department of Health & Family Welfare এবং West Bengal Government-এর Scheme Information।

উপকারী লিঙ্কসমূহ

লিঙ্ক কপি হয়েছে!